April 20, 2026, 5:00 am

র‌্যাব-১২ এবং র‌্যাব-১ এর যৌথ অভিযানে রাজধানীর দক্ষিণখান এবং কুষ্টিয়া জেলা হতে র‌্যাব কর্মকর্তা পরিচয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে প্রতারক চক্রের ০৫ সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি* গত ০২ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-১২ কুষ্টিয়া এর একটি আভিযানিক দল র‌্যাব কর্মকর্তা পরিচয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরি দেওয়ার নামে কুষ্টিয়ার স্থানীয় দুই যুবকের কাছে অর্থ নেওয়ার অভিযোগে ০৩ জন ব্যক্তি ১। মোঃ তাজন হোসেন (৩২), পিতা-মোঃ বদিয়ার হোসেন, জেলা-মাগুড়া, ২। মোঃ সাইফুল ইসললাম শেখ (৩০), পিতা-মোঃ আরব আলী, জেলা-মাগুড়া, ৩। মোঃ সাবান আলী (৬৮), পিতা-মৃত শামসুদ্দিন, জেলা- কুষ্টিয়া’দেরকে আটক করতে সক্ষম হয়। এসময় গ্রেফতারকৃত মোঃ সাইফুল ইসলাম এর কাছ থেকে র‌্যাবের একটি ভুয়া আইডি কার্ড উদ্ধার করা হয়।

৩। জিজ্ঞাসাবাদে মোঃ সাইফুল ইসলাম ও মোঃ তাজন হোসেন স্বীকার করে যে, প্রতারণা পূর্বক চাকুরি প্রত্যাশী যুবকদের নিকট হতে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তারা ভুয়া র‌্যাব কর্মকর্তা সেজে এধরণের কাজ করতো। সাইফুল ইসলাম নিজেকে র‌্যাব-৪ এর অধীনে সাভার ক্যাম্পে কর্মরত ক্যাপ্টেন শাহরিয়ার ইসলাম এবং মোঃ তাজন হোসেন নিজেকে র‌্যাব-১২ এ কর্মরত মেজর মশিউর রহমান নামে নিজেদের পরিচয় দিত। কুষ্টিয়ার স্থানীয় একজন ঘটক মোঃ সাবান আলীকে সাইফুল ইসলাম চাকুরি প্রার্থী সংগ্রহের কাজে ব্যবহার করতো। জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল স্বীকার করে যে, ঢাকার আশকোনাতে অবস্থিত একটি কম্পিউটারের দোকান থেকে সে র‌্যাবের ভুয়া আইডি কার্ড তৈরি করেছে।

৪। এরই ধারাবাহিকতায় ০২ ডিসেম্বর ২০২১ ইং তারিখ দিবাগত রাতে র‌্যাব-১ এর সহায়তায় র‌্যাব-১২, সিপিসি-১, কুষ্টিয়া ক্যাম্প এর অভিযানিক দল ঢাকার দক্ষিণখান থানার আশকোনায় অবস্থিত একটি কম্পিউটার দোকান থেকে র‌্যাবের ভুয়া আইডি তৈরীতে পারদর্শী ১। এসএম জাহিদুল ইসলাম (২৮) ও কাজী শাহীন (৩০) কে হাতেনাতে আটক করা হয়। এসময় তাদের কম্পিউটারে রক্ষিত র‌্যাবের ভুয়া আইডি কার্ড ও সেনাবাহিনীতে ভর্তির নিয়োগপত্র জব্দ করা হয়।

৫। উল্লেখ্য, গ্রেফতারকৃত সাইফুল ইসলাম এসএসসি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে। এরপর সে দীর্ঘ ১১ বছর হা-মীম নামক একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীতে নিরাপত্তা বিভাগে চাকুরি করেছে। করোনা মহামারীর সময় গার্মেন্টস কারখানা হতে চাকুরিচ্যুত হওয়ার পর সে এই পেশায় জড়িত হয়েছে বলে জানায়। গ্রেফতারকৃত সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলায় সেনাবাহিনীতে চাকুরি দেওয়ার নামে দুইজন যুবকের কাছ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা গ্রহণের পর ভুয়া নিয়োগপত্র দেওয়ার অভিযোগে মাগুড়া জেলার শ্রীপুর থানায় একটি মামলা চলমান আছে, যার নাম্বার-২১২/২০২১, তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ধারা-৪০৬/৪২০/৪৭৩/৪৬৮/৪৬৭/৪৭১/৫০৬(২)/১১৪।

৬। ধৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা